ডি আর আনিস যশোর জেলাপ্রতিনিধিঃ
যশোরের অভয়নগরে রেলবস্তির জবেদা বেগম করোনায় আক্রান্ত হয়ে বস্তির ঘরেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ শুরু হয় তার শ্বাসকষ্ট। পরিবারের সদস্যরা অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য ফোন করেন নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসানকে। ওই রাতেই জবেদার ঘরে পৌঁছে যায় নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয় অক্সিজেন ব্যাংকের অক্সিজেন সিলিন্ডার।
‘সেদিন রাতে অধ্যক্ষ রবিউল হাসানের অক্সিজেন সেবা আমার জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে’- কেঁদে ফেলেন জবেদা বেগম। এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয় অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা অধ্যক্ষ রবিউল হাসান জানান, ‘করোনা মহামারি যখন লাগামহীন। হাসপাতালে সীটখালি নেই। অক্সিজেন সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তখনই মনের তাগিদে অক্সিজেন ব্যাংক গঠন করার সিদ্ধান্ত নেই। দুইটি সিলিন্ডার ক্রয় করে কার্যক্রম শুরু করি। পরবর্তীতে অভয়নগরের সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম মাসুদ আহম্মেদ ১০টি ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে সিলিন্ডার উপহার দিয়েছন, যাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’তিনি আরো জানান, ‘অক্সিজেন ব্যাংক গঠনের পর আমার কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবিএম নওয়াব আলী, মো. আক্তারুজ্জামান, এসএম আবিদ হাসান ও সাজেদুর রহমান সুমন যুক্ত হন। এই চারজন শিক্ষক ২৪ ঘন্টা সেবা দিয়ে চলেছেন। দিন বা রাত যখনই ফোন আসে তখনই তারা অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যান করোনা আক্রান্ত রোগির বাড়ি। আর এই চারজন শিক্ষককে সার্বক্ষনিক সহযোগিতা করেন অফিস সহায়ক আবু সাঈদ। ’সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করা সহকারী অধ্যাপক এস এম আবিদ হাসান জানান, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই এ কাজে এগিয়ে আসা। মানব সেবার কাজে ভয়-ভীতি কোন বিষয় নয়। এটা মানসিক প্রশান্তি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম মাহমুদুর রহমান রিজভী জানান, নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসানের গড়া অক্সিজেন ব্যাংক একটি মহতী কাজ করছে। তার মত সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হত। করোনায় মৃত্যুর হার কমে যেত।’
Leave a Reply