নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রংপুরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল লেখক ও সাব-রেজিস্টারের মধ্যে তর্ক বির্তকের ঘঠনার খবর পাওয়া গেছে। তারই সুত্র ধরে
গত
বৃহস্পতিবার ১৫ ই অক্টোবর ২৬ ইং দলিল লেখকদের কর্ম বিরতিতে কয়েক ঘণ্টা নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে সহকারী কমিশনারের (ভূমি)’র হস্তক্ষেপে বেলা ২টার পর পুনরায় কার্যক্রম শুরু হলেও পরে বিকেলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় দলিল করতে আসা কয়েকজনের সাথে সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলের ধাক্কাধাক্কির ঘঠনাও ঘঠে।
সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডলের দাবি, কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদ দেখে দলিল নিবন্ধনে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নিতে দলিল লেখকদের সতর্ক করেন। তার এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে কার্যালয়ে এসে সাব-রেজিস্ট্রার দলিল লেখকদের জানান, ত্রুটিপূর্ণ কোনো দলিল নিবন্ধন করা হবে না। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে এবং দলিল করতে কত টাকা খরচ হবে, তা গ্রাহকদের জানিয়ে দিতে হবে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ায় এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন তিনি।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দলিল লেখকেরা নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। ফলে দলিল করতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিন কার্যালয়ে যান। তিনি সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে বেলা ২টার পর নিবন্ধন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। সূত্রের দাবি, এ সময় ত্রুটিপূর্ণ কোনো দলিল নিবন্ধন করেননি সাব-রেজিস্ট্রার।
বিকেল ৫টার দিকে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আর দলিল নিবন্ধন করবেন না বলে জানান রিপন চন্দ্র মণ্ডল। এতে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় কয়েকজন দলিল লেখক তাকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তিনি এজলাস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে মর্টগেজ দলিল নিবন্ধন করতে আসা কয়েকজন তাকে ধাক্কাধাক্কি করে লাঞ্ছিত করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করার কথা বলে কার্যালয় ত্যাগ করেন সাব-রেজিস্ট্রার।
পীরগাছার
কালীগঞ্জ থেকে দলিল করতে আসা আব্দুল জলিল বলেন, জমির দলিলে জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের ঘটনা ঠেকাতে মালিকানার ইতিহাস ও ভায়া দলিল যাচাই করা জরুরি। এসব নথি যথাযথভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত মালিকেরা সুরক্ষা পাবেন এবং সাধারণ মানুষ দালালের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন বলে মনে করেন তিনি।
কান্দি ইউপি থেকে আসা আরেক সেবাপ্রার্থী মহব্বত আলী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কিছু নির্দেশনা দিলেও মুহুরিরা তা মানতে চাইছেন না বলে তাহার অভিমত।
সাব-রেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমি গত ৮ তারিখে এখানে প্রথম অফিসে যোগদানের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ দেখতে পাই। তাই টাকার উৎস ও কোথায় তা যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রথম থেকেই নিয়ম মেনে দলিল লেখার নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা না নিতে দলিল লেখকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অফিসেও যেন কেউ অতিরিক্ত অর্থ প্রদান না করেন, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। নকল বা সার্টিফায়েড কপির জন্য কেউ অতিরিক্ত টাকা চাইলে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন তিনি।
দলিলের বৈধতা যাচাইয়ের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন আইন অনুযায়ী কোনো দলিলের মালিকানার প্রমাণ বা বৈধতা নিশ্চিত করতে হলে তার ন্যূনতম ২৪ বছরের ইতিহাস বা ভায়া দলিল এবং ওয়ারিশান সনদ থাকা আবশ্যক।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক হাসান তাহসিন বলেন, দীর্ঘক্ষণ দলিল নিবন্ধন বন্ধ থাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজর রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পীরগাছা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক এর বক্তব্য পাওয়া যায় নাই®
Leave a Reply