নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দীর্ঘ ১৬ বছর পর আত্মত্যাগের ফল বিশ্বমানের আধুনিকায়নের পরিকল্পনা
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর সম্প্রসারণের জন্য ১ হাজার ৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। প্রস্তাবনা প্রকল্পটি মন্ত্রী পরিষদ সভা একনেকে ইতোমধ্যে উত্থাপিতও হয়েছে। বেরোবি’র জন্য এতো বড় বাজেট এটিই প্রথম। এই বৃহৎ বরাদ্দ যথাযথভাবে প্রয়োগ হলে পাল্টে যাবে বেরোবির দৃশ্যপট। যুগের তালে আধুনিকায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি হয়ে উঠবে বিশ্বমানের।
বেরোবি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১ হাজার ৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই বরাদ্দের আলোকে প্রস্তাবিত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের প্রস্তাবনা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে ইতোমধ্যে পাঠিছে বেরোবি কর্তৃপক্ষ।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বেরোবিতে ১০ তলা বিশিষ্ট দুটি ছাত্র হল, ১০ তলা বিশিষ্ট দুটি ছাত্রী হল, ১৫ তলা ভিত্তির উপর ১২ তলা বিশিষ্ট টিচার্স কোয়াটার, ১৫ তলা ভিত্তির উপর ১২ তলা বিশিষ্ট অফিসার্স কোয়াটার, ১৫ তলা ভিত্তির উপর ১২ তলা বিশিষ্ট স্টাফ কোয়ার্টার, ১৫ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ৭ তলা বিশিষ্ট কম্প্রেনসিভ একটিভিটি সেন্টার (শিক্ষক-শিক্ষার্থী সেন্টার), ৩ তলা ভিত্তির ওপর দো-তলা মসজিদের সম্প্রসারণ, একতলা বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় মন্দির নির্মাণ, ৬ তলা ভিত্তির ওপর দো-তলা শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র নির্মাণ, একতলা বিশিষ্ট সাবস্টেশন ভবন নির্মাণ, একতলা বিশিষ্ট পাম্পহাউজ নির্মাণ, সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম নির্মাণ, ১০ তলা ভিত্তির ওপর ৪ তলা একাডেমিক ভবনকে ১০ তলায় উন্নতিকরণ, ৫ তলা ভিত্তির ওপর ২ তালা বিশিষ্ট আধুনিক ডিজিটাল লাইব্রেরি নির্মাণ করার পরিকল্পনা গৃহীত হয়। একাডেমিক মাস্টার প্লান, ইঞ্জিনিয়ারিং মাস্টার প্লান এবং ডিপিপি, এই তিনটি পার্টে প্রকল্পটির প্রস্তাবনা তৈরি হয়েছে।
ইউজিসি, অর্থমন্ত্রনালয়, শিক্ষামন্ত্রনালয়, পরিকল্পনা মন্রনালয়, বিশ্বব্যাংক ও এডিপি-এর সমন্বয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় গঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে এই বরাদ্দ চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। আর বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরুর কথা জানিয়েছে বেরোবি কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন “বর্তমান উপাচার্যের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১(এক) হাজার ৯০ (নব্বই) কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যা অনুমোদনের পথে । বিশবিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এ মেগাপ্রকল্প একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে ।
বেরোবি শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, এই বরাদ্দের প্রাপ্য ছিলো বেরোবি। প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এই বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নতুন ভিসি স্যার আসার পর থেকে এই বরাদ্দ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করি প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
বেরোবিতে যোগদানের দুই বছরের সাফল্যসহ মেঘা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নানা দিক তুলে ধরে বেরোবি ভাইস-চ্যাঞ্চলর ড. শওকত আলী বলেন, প্রস্তাবিত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটির জন্য দেয়া বরাদ্দ শিগগিরই পেয়ে যাবো আশা করছি। আর বরাদ্দ পাওয়ার সাথে সাথে প্রস্তাবনা অনুযায়ী কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। গত ১৬ বছরে বেরোবির জন্য এমন বরাদ দেয়া হয়নি, তাহলে কি শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের ফল এটি-এমন প্রশ্নের উত্তরে ভিসি বলেন, শহীদ আবু সাঈদ আমার স্টুডেন্ট আমার সন্তান, তার আত্মত্যাগ ভুলবার নয়। তার কারণে আজ বেরোবিতে এমন বৃহৎ বাজেট পাওয়া সম্ভব হয়েছে। সেইসাথে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতাও যথেষ্ট রয়েছে®
Leave a Reply