নিজস্ব প্রতিবেদক:
১৯৭২ইং সালে লুৎফর রহমান এসএসসি পাস করেন। কিন্তু ১৯৭৪ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের সর্বগ্রাসী ভাঙনে তাহার পরিবার একদম নিঃস্ব হয়ে যায়, বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। নিজে না পারলেও, চরের অন্য কোনো বাচ্চার যেন পড়াশোনা বন্ধ না হয় সেই জেদ থেকেই নদীপাড়ের সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের পড়ানো শুরু করেন তিনি।
শুরুর দিকে তিনি একদম ফ্রিতে বাচ্চাদের পড়াতেন। পরে বাচ্চাদের অভিভাবকরা জোর করায় সম্মানী হিসেবে মাত্র ১ টাকা করে নেওয়া শুরু করেন।
গত ৫২ বছরে বাজারে চাল-ডাল-তেলের দাম হাজার গুণ বাড়লেও লুৎফর মাস্টারের উথাল-পাথাল ফি কিন্তু ১ টাকাই রয়ে গেছে!
এই ৮০বছর বয়সেও তিনি একটা পুরোনো সাইকেল নিয়ে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে ঘোরেন। রোদ হোক বা ঝড়-বৃষ্টি, খোলা আকাশের নিচে বা চরের বালুর ওপর বসেই ৩০-৪০ জন বাচ্চাকে একসাথে শিক্ষার আলো দিয়ে যাচ্ছেন।
এই ১ টাকা ফি দিয়ে উনার কাছে পড়ালেখার হাতেখড়ি নেওয়া চরের শত শত ছেলেমেয়ে আজ দেশের বড় বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ অফিসার আর ব্যাংকার! এমনকি নিজের এলাকার মাদরাসার প্রিন্সিপালও উনারই ছাত্র।
গত বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। আর এই এক টাকার মাস্টার ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজের পছন্দের স্পেশাল ৭ জনের তালিকায়!
স্টেজে লুৎফর রহমানের মুখে এই ত্যাগের গল্প শুনে প্রধানমন্ত্রী ইমোশনাল হয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করেন, কোনো সরকারি চাকরি বা প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলের সাথে যুক্ত না থাকলেও লুৎফর স্যার আজীবন সরকারি নিয়মেই অবসরকালীন পেনশন বা ভাতা পাবেন! সাথে রাষ্ট্র উনাকে নগদ ২ লাখ টাকা এবং সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়েছে।
লুৎফর রহমান একটা কথা আমার বেশ ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, একটা শিক্ষিত বাচ্চা কখনো গরিব হতে পারে না©
Leave a Reply