মোঃ হেলাল উদ্দিন
জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালীঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় নোটারী পাবলিক দ্বারা এভিডেভিড এর মাধ্যমে তালাক কৃত স্ত্রী এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর যৌতুক মামলা করেন শ্বশুর-শ্বাশুরী ও স্বামীর বিরুদ্ধে।
সূএ মতে জানা যায় উপজেলার ছোটচর শীবা গ্রামের মোঃ হারুন ব্যাপারী এর ছোট ছেলে মোঃ রেজাউল, ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গলাচিপা আসে। এ সুবাদে পরিচয় হয় গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মোঃ আলমগীর হাং এর মেয়ে মোসাঃআছিয়া বেগমের সাথে।পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হলে মেয়ের বাড়িতে বেরাতে যায় মোঃ রেজাউল।এই সুযোগে বিবাহের পরিবেশ তৈরি করে মেয়ের পরিবার। ৩০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে ছেলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহ হলেও সংসার শুরু করে এই দম্পতি। নতুন জীবন সাজাতে গিয়ে পায়রা পোর্টে কাজের সন্ধানে মিলে যায়। অর্থ উপার্জনের তাগিদে চুক্তিভিত্তিক কর্মে যোগদান করে রেজাউল। এদিকে গ্রামের বাড়ি ছোটশিবায় রেখে যাওয়া স্ত্রী পার্শ্ববর্তী লোকজনের পরামর্শে পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে খারাপ আচরন করে চলে যায় বাবার বাড়ি। বিভিন্ন ভাবে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ব্যার্থ হলে ১৮ জুলাই ২০২১ সালে কোট এভিডেভিড এর মাধ্যমে তালাক দেয় রেজাউল। এ দিকে দীর্ঘ এক বছর পর ১৪ জুলাই ২০২২ তারিখ আদালতে যৌতুক মামলা করেন মোসাঃ আছিয়া বেগম।যাহার মামলা নং-সি আর ৫৬৬/২২। এ বিষয় যৌতুক মামলার আসামি রেজাউল(২৩) বলেন, “গলাচিপায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে পরিচয় হয় আছিয়া’র সাথে। ঐ দিন রাতে পক্ষীয়া এলাকার অপরিচিত একাধিক লোকজন এসে কাবিনে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। কে আমার অভিভাবক আর কে কাজী তা জানতে পারিনি। তবুও সংসার শুরু করি কিন্তু চাকরী সুবাদে পায়রা পোর্টে চলে যেত হয়। বাবা মায়ের কাছে রেখে যাওয়া স্ত্রী ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে সংসারে ঝামেলা শুরু করে। পার্শ্ববর্তী ঝামেলায় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে সমাধান হলে স্ত্রী তার বাবার বাড়ি চলে আসে। এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের মাধ্যমে সমন্বয় ও কাবিনের কাগজ উঠাতে গিয়ে ব্যার্থ হলে কোটের মাধ্যমে তালাক দেই’। এ বিষয়ে বিবাহ রেজিস্ট্রার নিবন্ধনে নিয়োজিত কাজী এর সহকারী মোঃ নজরুল ইসলাম ১২ জুলাই ২০২১ সালে তার নিজ বসত ঘরে বর পক্ষের অবিভাবক বিবাহের কাবিন এর বিষয় জানতে চাইলে উপস্থিত লোকজনের সামনে বলেন,”রেজাউল ও আছিয়া খাতুন এর বিবাহে গিয়েছিলাম কিন্তু উপযুক্ত কাগজ পত্র না থাকায় কাবিন করা হয়নি’। তবে “সেই দম্পতির এক বছর পরে কি ভাবে বিবাহ কাবিন তৈরি হল ” ? গণমাধ্যম কর্মী এই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,’যা হয়েছে আইনের মধ্যে থেকেই হয়েছ’। বিষয়টি নিয়ে আছিয়া বেগম(২০)এর মুঠো ফোনে কল করলে বন্ধ পাওয়া যায়।
Leave a Reply