1. jahidrangpurpress@gmail.com : admin :
শিরোনাম:
রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ০১ (এক) জন মাদক কারবারি আটক নিবেদন (কবিতা) পীরগাছায় শালিসি বৈঠকে সাংবাদিকসহ পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা জেলা বিএনপির দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত। উত্তরের লাইফলাইন তিস্তাকে সম্ভাবনার মাধ্যমে উন্নয়নের দ্বার খুলে দেওয়া হবে-এনসিপি”সদস্য সচিব আখতার হোসেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় রংপুরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। রংপুরের পীরগাছা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন গ্রেপ্তার। উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে গণমাধ্যমকর্মীকে আসামি বানিয়ে মামলা মেধাবী শিক্ষার্থীর নম্বরপত্র জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ান”র বিরুদ্ধে। “রংপুরে নবাগত পুলিশ সুপারের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত” রংপুরে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে-নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। বৈষম্য বিরোধী সাংবাদিক আন্দোলন রংপুর’র কার্যকরী কমিটি গঠিত। এইচএসসির খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ ১৬ই নভেম্বর সুখবর-সুখবর-সুখবর “বিয়ে করলেই পেয়ে যাবেন সেই দেশের নাগরিকত্ব” রংপুর প্রেসক্লাব’র সদস্য অন্তর ভুক্তি তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এনে বৈ: বি: সাং: সমাজের পুনরায় যাচাই-বাচাই কমিটির দাবী। রাত পোহালেই ১৬ তারিখ এইচএসসি পরিক্ষার ফল প্রকাশ-পরদিন থেকেইপুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন গ্রহণ। নেপালের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলেন সুশীলা কারকি একুশেখবর ডটকমের প্রকাশক”জাহিদ”বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যান পরিষদ এর রংপুর বিভাগীয় সম্পাদক নির্বাচিত দীর্ঘ ১৭ বছর পর রংপুরে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জনসভা

স্বপ্নের পদ্মা সেতু’র শুভ উদ্বোধন হলো আজ

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৫ জুনe, ২০২২
  • ৩০৫ সময়

 

একুশেখবর.কম,অনলাইন-নিউজ ডেস্কঃ

 

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে আজ আজ শনিবার বেলা ১১টা ৫৮ মিনিটে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মার দুই প্রান্ত যুক্ত হয়েছে সড়কপথে। গত ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে প্রথম স্প্যান বসেছিল।
মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করেছেন ৩ হাজার ৫০০ জনের মতো আমন্ত্রিত অতিথি। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মকর্তারা ছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিলো বিদেশি রাষ্ট্রদূত, সরকারি আমলা, রাজনৈতিক নেতারা, বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ নানা উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন সেতুর কাজে যুক্ত থাকা বিদেশি এবং দেশের বড় বড় প্রকৌশলী। জমকালো এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে জাজিরা প্রান্তে একটি জনসভাও অনুস্টিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ, অর্থায়ন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সরে যাওয়া, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ, বাংলাদেশের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরির ঘোষণাসবই এখন ইতিহাস। পদ্মায় হচ্ছে না সেতু, সেই সমালোচকদের জবাব দিচ্ছে খোদ স্থাপনাই। সুএ মতে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার গর্বের পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলার কথা রয়েছে রোববার সকাল ৬টা থেকেই।

সেতু বিষয়ে ফিরে দেখা “সপ্ন বোনার শুরু যখন থেকে”

১৯৯৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই বুনেছিলেন মুলতঃ এই স্বপ্নের বীজ। তবে শুরুতে এই যাত্রা ছিল বন্ধুর। বিশ্বব্যাংক ২০১২ সালের ৩০ জুন পদ্মা সেতুর ১২০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তার চুক্তি বাতিল করে। তাদের দেখা দেখি নিজেদের সরিয়ে নেয় জাইকা, এডিবি ও আইডিবি’র মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান। ঋণদাতাদের চাপ, দেশে-বিদেশে নানা সমালোচনার মুখে সরিয়ে দেওয়া হয় ওই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের দিকেও অভিযোগের আঙুল ওঠে। প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামের নাম কাটা পড়ে। ওই সময়ের সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌসকে যেতে হয় কারাগারে। মাঠে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও আসেন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করতে । এরপর ২০১২ সালের জুলাইতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন—নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করবে বাংলাদেশ। সারা বিশ্ব অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখে—পারবে তো বাংলাদেশ? নানা প্রশ্ন সমালোচক আলোচক দের মুখে। নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘঠীয়ে অবশেষে-
২০১৪ সালের ৭ ডিসেম্বর শুরু হলো পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। পদ্মা সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছিল এর পাইল ড্রাইভিং নিয়ে। সেতুর কাজ শুরুর পর দেখা গেল, নদীর নিচে মাটির যে স্তর পাওয়া গেছে, তা পিলার গেঁথে রাখার উপযোগী নয়। এ অবস্থায় দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, পাইল নিয়ে যেতে হবে আরও গভীরে। কত গভীরে- ১৩০ মিটার। বাকি থাকে দ্বিতীয় বিকল্প। আর তা হলো,গভীরতা কমিয়ে পাইলের সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া। গোটা বিশ্বে এই পদ্ধতি প্রয়োগের নজির খুব একটা নেই।
পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো সেতুতে ১২০ থেকে ১২২ মিটার গভীরে পাইল প্রবেশ করাতে হয়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চটি ১৫০ দশমিক ১২ মিটার বা ৪৯২ দশমিক ৫ ফুট। অর্থাৎ, সেতুটি নির্মাণের জন্য এমনকি প্রায় ৫০ তলা ভবনের উচ্চতার সমান দৈর্ঘ্যের পিলার স্থাপন করতে হয়েছে।
আরেকটি রেকর্ড হলো এতে ব্যবহৃত বেয়ারিং। পদ্মা সেতু নির্মাণে পিলার ও স্প্যানের মাঝে প্রতিটি ১০০ টন ওজনের ৯৬টি বিয়ারিং ব্যবহৃত হয়েছে। বিশ্বে এর আগে এত বড় বিয়ারিং আর কোনো সেতুতে ব্যবহার করা হয়নি। এখন রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকবে সেতুটি।
নদীশাসনের কাজেও হয়েছে রেকর্ড। এই সেতু নির্মাণে ১৪ কিলোমিটার এলাকা নদীশাসনের আওতায় আনা হয়েছে। ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এই নদীশাসনের কাজটি করেছে চায়না সিনোহাইড্রো করপোরেশন নামের একটি কোম্পানি।  কোনো সেতু নির্মাণে নদী শাসনের জন্য এখন পর্যন্ত এত বড় চুক্তি আর কোথাও হয়নি।
পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত ক্রেনটিও রেকর্ড করেছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি আনা হয়েছে সদুর চীন থেকে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুনতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। সাড়ে তিন বছরে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশ্বে এই প্রথম কোনো সেতু নির্মাণে এত দীর্ঘ সময় ক্রেনটি ভাড়ায় থেকেছে। ক্রেনটির বাজারদর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

মূল সেতুতে ৩০টি উপকরণের ব্যবহার বেশি হয়েছে। পদ্মা সেতুতে সিমেন্ট লেগেছে আড়াই লাখ টনের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে তৈরি রড ব্যবহৃত হয়েছে ৯২ হাজার টনের বেশি। সেতুতে বালু লেগেছে সাড়ে ৩ লাখ টন। বিদ্যুৎব্যবস্থার জন্য সোয়া ৪ কোটি লিটার ডিজেল পোড়ানো হয়েছে। বিটুমিন লেগেছে ২ হাজার টনের বেশি। দেশে তৈরি বিদ্যুতের কেবল ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় পৌনে ৩ লাখ মিটার এবং পাইপ ১ লাখ ২০ হাজার মিটার। পদ্মা সেতুর পাইলিংয়ের ওপরের অংশে মাটিকে বেশি ওজন বহনে সক্ষম করতে একধরনের বিশেষ সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যাকে অতি মিহি সিমেন্ট বলা হয়। সিঙ্গাপুর থেকে আনা ২ হাজার টন এই সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। কংক্রিটের পথের ওপর প্রথমে দুই মিলিমিটারের পানি নিরোধক একটি স্তর বসানো হয়েছে, যা ওয়াটারপ্রুফ মেমব্রেন নামে পরিচিত। ৫৬০ টন পানি নিরোধক উপকরণ ও সেতুর পাশের রেলিং এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে।
যেকোনো সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেই এতে চলাচলকারী যানবাহনের নিরাপত্তা ভীষণ গুরুত্বপূর্ন। বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে সাধারণত কংক্রিটের দেয়ালকেই বেছে নেওয়া হয়, যাকে প্রকৌশলের ভাষায় প্যারাপেট ওয়াল বলে। পদ্মা সেতুতে এই প্যারাপেট ওয়াল ব্যবহার করা হয়েছে।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর দুই পাশে এমন দেয়াল রয়েছে মোট ১২ হাজার ৩৯০টি। সঙ্গে অবশ্য স্টিলের রেলিংও রয়েছে । পদ্মা সেতুর মূল কাঠামোর পাশাপাশি সেতুর ভায়াডাক্টেও এই প্যারাপেট ওয়াল আছে। শুধু সেতুর সড়কপথেই নয়, নিচের রেললাইনের দুই পাশেও একই ধরনের প্যারাপেট ওয়াল বসানো হয়েছে। শ্রমিক-প্রকৌশলীসহ প্রায় ১২ হাজার কর্মীর মেধা ও শ্রমে তৈরি হয়েছে পদ্মা সেতু।

সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এর বরাত দিয়ে জানা যায়, সেতুর কাজ শুরুর পর এক দিনের জন্যও নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়নি। লোকবলের মধ্যে চীনের শ্রমিক-প্রকৌশলী ছিলেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন। আর বাকী সবাই ছিলেন বাংলাদেশেরই জনশক্তি।

ছবি ও সেতু বিষয়ক সকল তত্ত্ব উপাত্ত অনলাইন ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগ্রহীত।

0Shares

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাটাগরির আরও খবর...
© All rights reserved 2025 by-www.ekusheykhobor.com
Site Customized By Suman Chowdhury
Skip to toolbar