মোঃ মোশারফ হোসেনঃ
অদ্য ২৫ শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ ইং শুক্রবার দেশের উত্তারঞ্চলের জেলা রংপুরের কয়েকটি উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় আকস্মিক ঘুর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। মিনিট কয়েকের ঝোড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ ও আবহাওয়া অধিদপ্তর তাৎখনিকভাবে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি।
রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ কালোমেঘে আচ্ছন্ন হয় আকাশ। এর কিছুক্ষণ পর শুরু হয় ঝড়ো হাওয়া। পৌঁনে পাঁচটার দিকে রংপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে পানির পরিমাণ কম হলেও প্রচুর শিলাপাথর ঝরেছে। শিলাবৃষ্টিতে কোথাও কোথাও শিলার স্তুপ জমে যায়। তবে বৃষ্টির চেয়ে দমকা ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়েছে জনজীবনে।
একাধিক পথচারী সুএে জানাগেছে, হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়াসহ শিলা বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন অনেক পথচারী। রংপুর শহরের কামাল কাছনা বাজারের একজন ব্যবসায়ী জানান, উত্তরের আকাশ একটু মেঘলা ছিল, দোকানে বসে আছি, হঠাৎ ঝড়ো বাতাস শুরু হলো। রাস্তার ধুলা দোকানে, সব অন্ধকার হয়ে গেলো।
নগরীর জাহায কোম্পানি, সিও বাজার,এবং রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া এলাকায়, ও তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ো হাওয়ার সাথে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। কয়েক মিনিট ধরে চলা বৃষ্টিপাতে ফসলি খেত ছাড়াও ঘর-বাড়ি ও গাছগাছালির ক্ষতি সাধীত হয়েছে।
নগরীর নজীরের হাট এলাকার ব্যববসায়ী রুবেল হোসেন বলেন, এরকম হঠাৎ শিলাবৃষ্টি এর আগে কখনো দেখেনি। কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতে পুরো বাজার এলাকা শিলাপাথরে ভর্তি হয়ে গেছে। পীরগাছা এলাকার ১নং কল্যানী ইউনিয়নের মানবাধিকার কর্মী মোছাঃ রোকছানা চৌধুরী রুখছি বলেন হঠাৎই এরকম শিলা বৃষ্টি এর আগে কখনও দেখি নাই। শিলা পাথরগুলো দেখতেও বড় আকৃতির ছিল। ঘুর্ণিঝড়ে তার বাড়ির পিছনের একটি নতুন মুকুল আসা আম গাছ ভেঙে পড়েছে বলেও জানান তিনি। এছারাও
তারাগঞ্জ, কাউনিয়া, সদরেরে খলেয়া, গঞ্জিপুর,মমিনপুর সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা জানান, ধানের গাছ এখন বেশ বাড়ন্ত। ধানও গজাতে শুরু করেছে। কিছুদিন পরই দৃশ্যমান হতো ধান। কিন্তু শুক্রবার বিকেলের এই শিলাবৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হলো। এবং আমগাছে আসা গুঁটি ঝরে গেছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে ঘুর্ণিঝড় বয়ে গেছে। শহরতলীতে এর স্থায়িত্ব এক মিনিটের কম সময় ছিল। তবে জেলার তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া উপজেলাসহ প্রত্যন্ত এলাকাতে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply